ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে হামলা করেছে তেহরান।

প্রায় এক মাসের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবার সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দরপতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও।

গত শনিবার হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রথম হামলা। হামলায় সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে জানিয়ে সেদিনই এর জবাব দেয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ করে হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। একই দিন একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৩৫ সেন্ট বা ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ ডলার ৪৫ সেন্টে ওঠে। দিনের শুরুতে এর দাম সর্বোচ্চ ৯১ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা ২৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ ডলার ৩১ সেন্ট বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ৭১ সেন্ট হয়। গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাবনা বাড়া-কমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রেন্টের দাম ৭২-১০২ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ‘‌মধ্যপ্রাচ্যে আবার সামরিক হামলা শুরু হওয়া এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তেজনা প্রশমনের দিকে যায় কিনা, বাজারের নজর এখন সেদিকেই থাকবে।’

বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দৈনিক মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। হামলার আশঙ্কায় জাহাজ পরিচালনাকারীরা সতর্ক অবস্থান নেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তবে ওই দ্বীপে হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও যুক্ত ছিল। ইরানও সেখানে হামলার খবর অস্বীকার করে জানিয়েছে, দ্বীপটিতে তেল-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন থেকে প্রতি সপ্তাহেই ইরানের ওপর নতুন করে পরোক্ষ বা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৩৪৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ এবং নাসডাক দশমিক ৩ শতাংশ হারিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর প্রায় সব খাতের শেয়ারই দর হারালেও তেল কোম্পানিগুলো লাভবান হয়েছে। এক্সনমবিলের শেয়ারদর ২ দশমিক ৯ ও শেভরনের ৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ছিল মিশ্র প্রবণতা।

আরও